রবিবার, সেপ্টেম্বর 20, 2020
Home টোকিও অলিম্পিক ২০২০ ভারত্তোলন নয়, অচিন্ত্য শিউলীর আসল প্রতিপক্ষ অপরিসীম দারিদ্র, বাংলা ছাড়তেও আপত্তি নেই...

ভারত্তোলন নয়, অচিন্ত্য শিউলীর আসল প্রতিপক্ষ অপরিসীম দারিদ্র, বাংলা ছাড়তেও আপত্তি নেই কমনওয়েলথ ভারত্তোলনে পদকজয়ীর

হতাশার আঁধারে হাওড়ার দেউলপুরের অচিন্ত্য শিউলী। কলকাতায় জাতীয় ভারত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে মঙ্গলবার ৫৪ কেজি বিভাগে খেতাব হাতছাড়া হল অচিন্ত্যর। মোট ৩০৪ কেজি তুলে রূপো নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হল। অচিন্ত্যকে হারিয়ে সোনা জিতলেন তামিলনাড়ুর ভারত্তোলক। সোনা জিততে না পারায় জাতীয় দলে ঢোকাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল অচিন্ত্যর।। যার ফলে টোকিও অলিম্পিক্সের টিকিট পাওয়াও সংশয়ে পড়ে গেল। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে দ্রোণাচার্য কোচ বিজয় শর্মাকে দেখা গেল অচিন্ত্যকে সাহস যোগাতে, যাতে অচিন্ত্য হাল না ছাড়েন।

কমনওয়েলথ জুনিয়র ও সিনিয়র ভারত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে পদকজয়ী এই ভারত্তোলকের আসল লড়াই দারিদ্রের সঙ্গে! বাবা জগত শিউলী ভ্যান রিক্সা চালাতেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন বছর দশেক আগে। অচিন্ত্যর মা পুর্ণিমা, জরির কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন। বড় ছেলে দমকলের অস্থায়ী কর্মী। আর অচিন্ত্যর লড়াই ভারত্তোলনকে হাতিয়ার করে দারিদ্র্যকে হার মানানোর। পাতিয়ালায় জাতীয় শিবিরে থাকার ফলে ডাল-ভাত কোনওরকমে জুটে যায়। কিন্তু বাড়তি খাবার, ফুড-সাপ্লিমেন্ট-কিছুই পান না. কারণ ওগুলো সবই কিনতে হয়। অথচ ভারত্তোলনের মতো খেলায় ফুড-সাপ্লিমেন্ট বাধ্যতামূলক।

মঙ্গলবার অচিন্ত্য বললেন, “সোনা জিততে পারিনি বলে কোনও অজুহাত দিচ্ছি না। কিন্তু আমার পরিবারের পক্ষে আমার পেছনে একটা বাড়তি টাকাও খরচ করার সাধ্য নেই।” মীরাবাই চানুর জুতোর দাম অন্ত দশ হাজার টাকা। সেখানে অচিন্ত্য টুর্নামেন্টে নামেন ছ’শো টাকার জুতো পরে! একটা ফুড-সাপ্লিমেন্টের দাম কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা। সেই টাকায় আমার তার মাস চলে! অচিন্ত্যর আফশোষ, “বাংলার হয়ে অন্তত আটবার পদক জিতেছি। তবু, কারও কাছ থেকে কোনওরকম আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা পাইনি।” মঙ্গলবারই অবশ্য অচিন্ত্যরা পাশে দাঁড়ানোর কথা জানালো, কলকাতার এক বেসরকারি সংস্থা।

১৮ বছর বয়স অচিন্ত্যর। আগামী বছর তার সার্ভিসেসে একটা চাকরি পাওয়ার কথা হচ্ছে। যদি পান, তাহলে বাংলা ছাড়তেও আপত্তি নেই অচিন্ত্যর। বললেন, “বাংলায় থেকে কোনও আর্থিক সহায়তা পাইনি। সার্ভিসেসে যোগ দিলে তারা চাকরি ছাড়াও কোনও প্রতিযোগিতায় ভাল ফল করলে আর্থিক পুরস্কার দেয়। সেই টাকায় অন্তত একটা ফুড-সাপ্লিমেন্ট তো কিনতে পারব।”