শুক্রবার, নভেম্বর 27, 2020
Home ফুটবল নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী: ভারতীয় ফুটবলের জনকের অজানা এক কাহিনী

নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী: ভারতীয় ফুটবলের জনকের অজানা এক কাহিনী

দ্য ব্রিজ ডেস্কঃ আমরা সকলেই জানি টলিউড সুপারস্টার দেব ভারতীয় ফুটবলের জনক নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর ভূমিকায় ‘গোলন্দাজ’ ছবিতে অভিনয় করছেন। ধ্রুব ব্যানার্জি পরিচালিত এই বাংলা ছবিতে দেব ছাড়াও রয়েছেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ইশা এম সাহা, ইন্দ্রশিস রায়, শ্রীকান্ত আচার্য ও প্রমূখ।

২৫শে জানুয়ারি মুক্তি পেল গোলন্দাজ ছবির পোস্টার। চলুন আজকের দিনেই জেনে নেওয়া যাক এই ব্যক্তিকে যিনি কালের নিয়মে ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছেন।

১৯১১ সাল ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য বছর। এই বছর ১১ জন ভারতীয়, মোহনবাগান জার্সিতে খালি পায়ে খেলে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে হারায় ইংল্যান্ডের ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে। এই প্রথম কোনও ভারতীয় ক্লাব সম্পূর্ণ ১১ জন ভারতীয়কে নিয়ে শিল্ড  জেতে, যা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে। এই জয় যদিও বহু দিনের লড়াইয়ের ফল। আর এই জয়ের পেছনে যদি কারোর সবথেকে বেশি অবদান থেকে থাকে তিনি আর কেউ নন ভারতীয় ফুটবলের জনক নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী।

নগেন্দ্রপ্রসাদই প্রথম ভারতীয় ব্যক্তি যিনি ফুটবলে পা দিয়েছিলেন। ঘটনাটি ঘটে ১৮৭৭ সালে কলকাতা ময়দানে। সেসময় নগেন্দ্রপ্রসাদ কিছু ইংরেজদের ময়দানে ফুটবল খেলতে দেখেন।

সেই সময় তারা খেলতে খেলতেই একটি বল ছিটকে চলে আসে ছোট্ট নগেন্দ্রপ্রসাদের পায়ে। আর সেই ইংরেজরা তাকে উৎসাহ দেয় সেই বলটিতে লাথি মেরে তাদের ফিরিয়ে দিতে। ছোট্ট নগেন্দ্র দারুণভাবে সেই বলে শট মেরে তাদের ফিরিয়ে দেয় এবং সেদিনই ইতিহাস তৈরি হয়।

এরপর থেকেই নগেন্দ্রপ্রসাদের ফুটবল খেলার প্রতি আরও আগ্রহ বাড়ে এবং তিনি স্কুল এবং কলেজেও খেলাটি চালিয়ে যান। তিনি খেলতেন সেন্টার ফরওয়ার্ড হিসাবে, একটু চেহারা ভারী হলেও গোলটি কিন্তু খুব ভালো চিনতেন। একটি কথা সকলকে বলে রাখা ভালো, সে সময় কলকাতায় অনেকগুলি ফুটবল ক্লাব থাকলেও সেগুলিতে শুধুমাত্র ইংরেজরাই খেলতে পারতেন। ভারতীয়রা শুধুমাত্র স্কুল এবং কলেজের ফুটবলেই অংশ নিতে পারত।

নগেন্দ্রপ্রসাদ প্রথম ব্যক্তি যিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন ভারতীয়রা একদিন এই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে খেলবে এবং তাদের চোখে চোখ রেখে লড়বে এবং হারাবে। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ফুটবল ক্লাব খুলে ভারতীয়দের সামনে ফুটবল খেলার রাস্তা প্রশস্ত করেন। তার দেখানো পথ অনুসরণ করে আরও অনেকেই ভারতীয়দের জন্য ক্লাব তৈরি করেন।

হুগলি নদীর পাশে স্থাপিত হয় ফ্রেন্ডস ক্লাব, বয়েজ ক্লাব, প্রেসিডেন্সি ক্লাব, ওয়েলিংটন ক্লাবের মত ঐতিহ্যশালী কিছু ক্লাব। এতে অনুপ্রাণিত হয়ে নদীর ওপারে হাওড়ায় হাওড়া স্পোটিং ক্লাব তৈরি করেন বামাচরণ কুন্ডু। ইনি নগেন্দ্রপ্রসাদের একনিষ্ঠ শিষ্য।

এই সময় ওয়েলিংটন ক্লাবের ভালো খেলার জন্য খুব নাম হয়, কিন্তু জাতপাতের কারণে এই ক্লাব বিতর্কে জড়ায়। নগেন্দ্রপ্রসাদ এই সময় ক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে এর প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ান ও ক্লাবের সঙ্গে নিজের সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এর থেকেই বোঝা যায় ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা ঠিক কতটা। আর কয়েক মাসের অপেক্ষা এই কিংবদন্তীর জীবনী সবার সামনে আসবে গোলন্দাজ এর মধ্যে দিয়ে।