বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 26, 2020
Home ফুটবল ৯০ তে পা বদ্রু ব্যানার্জির, জাতীয় অধিনায়কের বেঁচে থাকার প্রেরণা প্রয়াত...

৯০ তে পা বদ্রু ব্যানার্জির, জাতীয় অধিনায়কের বেঁচে থাকার প্রেরণা প্রয়াত স্ত্রী

বদ্রু ব্যানার্জি ৯০-এ পা দিলেন বহস্পতিবার। ১৯৫৬-র মেলবোর্ন অলিম্পিক্সে ভারতীয় ফুটবল দলের অধিনায়কের ৯০-এ পা রেখেও স্মৃতি অমলিন।

বদ্রু ব্যানার্জি ৯০-এ পা দিলেন বহস্পতিবার। ১৯৫৬-র মেলবোর্ন অলিম্পিক্সে ভারতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক। ৯০-এ পা রেখেও তার স্মৃতি অমলিন। বৃহস্পতিবার সকালে তার হাওড়ায় বালির বাড়িতে কথা বলার সময় ৯০-এর তরুণের মুখে প্রখর স্মৃতিচারণ। “দিনটা ছিল দুর্গাপুজোর অষ্টমী। সন্ধেবেলায় রেডিওয় খবরটা এসেছিল যে আমাকে অধিনায়ক করা হয়েছে। পুরো পাড়ার রং-ই বদলে গিয়েছিল। কত যে মিষ্টি এসেছিল বাড়িতে তার ইয়ত্তা নেই।” বদ্রু এ-ও ভোলেননি তার বাবা ফুটবল সম্পর্কে কীরকম আতঙ্কিত ছিলেন। বললেন, “আমার বড়দা ফুটবল খেলতে খেলতে মারা গিয়েছিলেন ভবানীপুর মাঠে। তারপর থেকে ফুটবলের নামে আতঙ্ক ছিল বাবার। আমরা ছয় ভাই। প্রত্যেকেই লুকিয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেছিলাম। তারপর আমি যেদিন অধিনায়ক হয়েছিলাম, বাবার চোখে দেখেছিলাম জল।”

মোহনবাগানের হয়ে তার সাফল্য বলে শেষ করা যাবে না। অজস্র গোল। তবু অশীতিপর বৃদ্ধের স্মরণে শৈলেন মান্নার তাকে বিএনআর থেকে তুলে এনে কিংবদন্তি অভিনেতা জহর গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে লুকিয়ে রাখা। মোহনবাগানে সই করানোর জন্য। সেখানেই তার সঙ্গে সুচিত্রা সেনের আলাপ। আর উত্তমকুমার তো একাধিকবার এসেছেন বদ্রুর বাড়িতে, সেই স্মৃতিও অমলিন তার।তবে আগামীদিনেও তার বেঁচে থাকার প্রেরণা কে? বদ্রুর দ্বিধাহীন জবাব, “আমার স্ত্রী তপতী।” আট বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন সেই সময়ের বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী তপতী ঘোষ। পঞ্চাশের দশকে পূরীর সমুদ্রতটে দুজনের আলাপ, প্রেম এবং পরিণতি।

সেই সময় অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রেম এবং বিয়ে-বাঙালি সমাজে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রায় ৬২ বছর পরও তার ফুটবল জীবনের সাফল্যের জন্য স্ত্রী-র অবদানকেই সবচেয়ে  গুরুত্বপূর্ণ বলে জানাতে দ্বিধা করছেন না মেলবোর্ন অলিম্পিক্সে ভারতের অধিনায়ক এবং তার বাকি দিনগলোও স্ত্রী-র স্মৃতিই তাকে বাঁচিয়ে রাখবে, ঘোষণা বদ্রুর।