রবিবার, ডিসেম্বর 6, 2020
Home সাম্প্রতিক কবাডি বিশ্বকাপ জেতা সঙ্গীতা এখন গঙ্গাসাগরে হোমগার্ড

কবাডি বিশ্বকাপ জেতা সঙ্গীতা এখন গঙ্গাসাগরে হোমগার্ড

২০১৭ সাল থেকে বেঙ্গালুরু, মাদুরাই ও চেন্নাইয়ে তিন দফার ক্যাম্পে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই জাতীয় দলে ডাক পান রায়দিঘি মথুরাপুরের এই মেয়ে। সেমিফাইনালে হংকংকে ভাল ব্যবধানে হারায় ভারত। ফাইনালে তাইওয়ানকেও কার্যত উড়িয়ে দেন সঙ্গীতারা।

অশোকচক্র আঁকা জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সি তাঁর গায়ে নেই। রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের দেওয়া সাদা শার্ট আর খাকি ট্রাউজার্স। শার্টের উপরে কমলা রঙের লাইফ জ্যাকেট আর মাথায় সিভিল ডিফেন্স লেখা সাদা টুপি! বেচাল দেখলেই ছুটে যাচ্ছেন লাঠি হাতে। কয়েক মাস আগেই কবাডি বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য বছর আঠাশের সঙ্গীতা মণ্ডল এ বারের গঙ্গাসাগর মেলার সিভিল ডিফেন্স কর্মী। পাবেন প্রতিদিন ৫২৮ টাকা। জলের দিকে ছুটতে থাকা একটি শিশুকে মায়ের হাতে ফিরিয়ে সঙ্গীতা বললেন, “বাংলার কবাডি দল এখন অন্ধ্রপ্রদেশে। আমি যাইনি। রাগ করেই যাইনি। যাব কেন? বিশ্বকাপ জেতা মেয়ের চাকরি হয় না এ রাজ্যে। কয়েকটা টাকা তো পাব, ভেবে এখানে চলে এসেছি। যত কমই হোক, খেলতে গেলে এই টাকাটাও তো পেতাম না। তা ছাড়া কোনও কাজই ছোট নয়।” ভক্তদের কোলাহল, মাইকের অনর্গল ঘোষণাও চাপা দিতে পারে না সাত বার সিনিয়র ন্যাশনাল খেলা মেয়ের কেঁপে ওঠা গলায় বলা কথাটা। মালয়েশিয়ায় শেষতম কবাডি বিশ্বকাপ হয় ২০১৯ সালের ২০-২৮ জুলাই। ‘লেফট কভার’ বা ‘লেফট লাইন’ পজিশনে খেলতে স্বচ্ছন্দ সঙ্গীতা। ২০১৭ সাল থেকে বেঙ্গালুরু, মাদুরাই ও চেন্নাইয়ে তিন দফার ক্যাম্পে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই জাতীয় দলে ডাক পান রায়দিঘি মথুরাপুরের এই মেয়ে। সেমিফাইনালে হংকংকে ভাল ব্যবধানে হারায় ভারত। ফাইনালে তাইওয়ানকেও কার্যত উড়িয়ে দেন সঙ্গীতারা। মোবাইলে জাতীয় পতাকা, বিশ্বকাপ হাতে নিজের সে-দিনের ছবি দেখাতে দেখাতে সঙ্গীতা বলেন, “ওই দিনটার পরে মনে হয়েছিল, এ বার বুঝি জীবনে ভাল কিছু হবে। একটা চাকরি হবে। কিন্তু কিছুই তো বদলাল না!” ২০০৪ সালে মারা যান সঙ্গীতার বাবা মাধাই মণ্ডল। মা, বোন আর ভাইয়ের সংসারে তাঁর উপরে এখন অনেক দায়িত্ব। শাড়িতে পাড় বসিয়ে আর ঠোঙা বানিয়ে চলে সংসার। মা, বোনের সঙ্গে ওই কাজে হাত লাগাতে হয় তাঁকেও। তার সঙ্গেই চলে খেপ খেলা। সঙ্গীতার কথায়, “মেদিনীপুর থেকে খুব ডাক আসে। মেদিনীপুরের খেপই তো বংলার কবাডি খেলোয়াড়দের বাঁচিয়ে রেখেছে। তবে তাতে যে-টাকা আসে, তাতেসংসার চলে না। তাই কাজের জন্য গঙ্গাসাগর মেলায় আসতে হয়েছে। এখানে কাজ করব বলে আলিপুরের ক্যাম্পে গিয়ে প্রশিক্ষণও নিয়ে এসেছি।”