শুক্রবার, নভেম্বর 27, 2020
Home আটলেটিক্স চোটমুক্ত থাকলে টোকিও অলিম্পিক্সে যাওযায আত্মবিশ্বাস সোনাজয়ী রাখি হালদারের কথায়, মানছেন ...

চোটমুক্ত থাকলে টোকিও অলিম্পিক্সে যাওযায আত্মবিশ্বাস সোনাজয়ী রাখি হালদারের কথায়, মানছেন স্পনসরের অভাবে লড়াইটা কঠিন

বাংলার সোনার মেয়ে রাখি হালদার যখন ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ইভেন্টে নতুন রেকর্ড করতে গেলেন, তখন স্কোরবোর্ড তাঁর লক্ষ্যের ওজন দেখাল ১২৫ কেজি। বিস্ময়ে সে দিকে তাকিয়ে মঞ্চের কাছেই বসে থাকা  মীরাবাই চানুও। চিৎকার করে উৎসাহও দিচ্ছিলেন চব্বিশ ঘণ্টা আগে তিনটি রেকর্ড গড়ে সোনা জেতা মণিপুরের মেয়ে। 

পুরো ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে তখন স্তব্ধতা। রাখির স্বামী, মা এবং পরিবারের লোকজনও রয়েছেন সেই দলে। বিস্ময়ের কারণ, দ্বিতীয় ‘বারবেল’-এ ১২১ কেজি তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পরে কেন এমন ঝুঁকি নিলেন নদিয়ার হাবিবপুরের মেয়ে? মাটি থেকে সেই ওজনটা শেষ পর্যন্ত তুলতেই পারলেন না বছর আঠাশের মেয়ে। বারবেল মাটিতে ফেলে মঞ্চ থেকে নেমে পায়ের পিছনের পেশি ধরে বসে পড়লেন। ফিরে গেলেন ড্রেসিংরুমে।

কেন ১২৫ কেজি ওজন তুলতে গেলেন? মেয়েদের ৬৪ কেজি বিভাগে অনায়াসে সোনা জেতা রাখি বলে দিলেন, ‘‘আমরা কত ওজন তুলব, সেটা ঠিক করে দেন কোচ। উনি বললেন সোনা যখন জিতে গিয়েছি তখন রেকর্ডের জন্য ঝাঁপাও। সেটারই চেষ্টা করেছিলাম। বিশ্বাস করুন, জাতীয় শিবিরে আমি পাঁচ-ছয় বার করে ১২৫ কেজি ওজন তুলি। এখানে কেন পারলাম না বুঝতে পারছি না। পেশিটা টেনে ধরল।’’ বলতে বলতেই বাঁ দিকের কোমরের নীচের অংশ দেখান তিনি।

রাখি যে সোনা জিতবেন তা ঠিক হয়ে গিয়েছিল দিনের শুরুতেই। স্ন্যাচে ৭৩ কেজি ওজন তোলার পরে ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১৭ কেজি তুলে (মোট ২১০ কেজি) নিজের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন তিনি। রুপো জেতা হরজিন্দর কৌর শেষ করলেন অনেক পিছনে (২০০ কেজি)। রাখির এ দিন লক্ষ্য ছিল এক মাস আগে কাতার আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশিপে করা ২১৮ কেজি টপকে নিজের রেকর্ড ভাঙা। বলছিলেন, ‘‘নতুন রেকর্ড গড়ার ইচ্ছে নিয়েই এখানে নেমেছিলাম। সেটা করতে পারলে অলিম্পিক্সের যোগ্যতা পাওয়ার রাস্তাটা আরও মসৃণ হত।’’ বলার পরে টোকিও অলিম্পিক্সের দিকে অনেকখানি এগিয়ে যাওয়া রাখি বলে দেন, ‘‘আমি যদি দু’মাস চোটমুক্ত থাকি, তা হলে অলিম্পিক্সে যাওয়া কেউ আটকাতে পারব না। কাজ়াখস্তানে এপ্রিলে নামছি। ওখানে আশা করছি টোকিওয় নামার যোগ্যতা পেয়ে যাব।’’ অলিম্পিক্সে নামার জন্য রাখি ওজন স্থির করেছেন মোট ২২৬ কেজি। স্ন্যাচে ৯৮ এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১২৮। ডোপ টেস্ট দিতে যাওয়ার আগে বলছিলেন, ‘‘জাতীয় শিবিরে এটা আমি করছি নিয়মিত। চেষ্টা তো করবই।’’

রেলে চাকরি করলেও অচিন্ত্যের মতো রাখিও নিয়মিত পুষ্টিকর খেতে পারেন না আর্থিক সমস্যার জন্য। বলছিলেন, ‘‘আমাকে মা-বাবাকে নিয়মিত টাকা পাঠাতে হয়। আমি ডোপের কারণে বাইরের খাবার খাই না। পাতিয়ালার শিবিরে বছরের পর বছর থাকলেও নিজেই পুষ্টিকর খাবার কিনে খাই। বিদেশ থেকে সলমন মাছ কিনে আনতে হয়। যে মাছের এক কেজির দাম চার হাজার টাকা। সারা বছর ওটা সেদ্ধ করে খেলে শারীরিক সক্ষমতা অনেক বাড়ে। কিন্তু দু’মাসের বেশি তা খেতে পারি না টাকার অভাবে। এখানে পিছিয়ে পড়ছি অন্যদের কাছে। আমার একটা স্পনসর দরকার। তা হলে এই সমস্যা মিটবে।’’