মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 22, 2020
Home ক্রিকেট শেষ প্রহরে স্বপ্নভঙ্গঃ মুনি- জোনাসেন জুটির দৌলতে কাপ হাতছাড়া ভারতের

শেষ প্রহরে স্বপ্নভঙ্গঃ মুনি- জোনাসেন জুটির দৌলতে কাপ হাতছাড়া ভারতের

জেস জোনাসেনের বল লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হলেন অধিনায়িকা হরমনপ্রীত কৌর। ভারতের যাবতীয় প্রতিরোধ সেখানেই শেষ। শেষ বেলায় তানিয়া ভাটিয়ার ৭ বলে ১১ সত্ত্বেও ভারত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল হারল ১১ রানে।

১৫ ওভারের শুরুতে রান ভারতের স্কোর ৩ উইকেট হারিয়ে ১১৫। ব্যাটিং করছেন স্মৃতি মন্ধানা আর অধিনায়িকা হরমনপ্রীত কৌর। দুজনে ততক্ষনে ২৬ বলে ৫০ রানের পার্টনারশিপ করে ফেলেছেন। স্মৃতি ৩৭ বলে ৬৬ রানে অপরাজিত। আগের দুওভারে ২৭ রান তুলেছেন দুজনে। ভ্লায়েম্নিককে মারা ৩টি চার ছাড়াও, স্মৃতি-হরমনপ্রীত সাদার্ল্যান্ডের ওভারেও মেরেছেন তিনটি চার। জয়ের জন্য দরকার ৪১ রান , ৩৫ বলে। মেগান স্কাটের ওভারে শর্ট বল পুল করতে গেলেন স্মৃতি। ততক্ষণে দুটি ক্যাচে ফেলে দেওয়া নিকোলা কেরি সামনে ঝাপিয়ে পড়ে তালুবন্দী করেন ক্যাচটি। স্বপ্নভঙ্গের সেই শুরু। পরের ওভারেই জেস জোনাসেনের বল লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হলেন অধিনায়িকা হরমনপ্রীত কৌর। ভারতের যাবতীয় প্রতিরোধ সেখানেই শেষ। শেষ বেলায় তানিয়া ভাটিয়ার ৭ বলে ১১ সত্ত্বেও ভারত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল হারল ১১ রানে।

smriti

মিডল অর্ডার নিয়ে ভারতের দুশ্চিন্তা বজায় থাকল। আগের ম্যাচ গুলোর মতই এই ম্যাচেও চরম ব্যর্থ ভারতের মিডল অর্ডার। যদিও বাংলার রিচা ঘোষের অভিষেক ম্যাচেই তাকে তিন নম্বরে খেলিয়ে ব্যাটিং শক্তিশালী করতে চেয়েছিল ভারত। ২য় ওভারেই সেফালীকে হারানোর পর রিচার ২৩ বলে ১৭ রানের ইনিংসে ভারতের ইনিংস স্থিতিশীল হলেও জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। জেস জোনাসেন ১২ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। ফাইনালের মত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রান পেলেন না সেফালী ভার্মা এবং জেমিমাহ রড্রিগেজ। দুজনেই সিরিজের যে দুটো ম্যাচে ভারত জিতেছিল তাতে এই দুজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। হরমনপ্রীতের ভূমিকাও গুরুত্বপুর্ণ হয়ে ওঠে এই পরিস্থিতিতে। তার পরে আর কোনও নির্ভরযোগ্য ব্যাট না থাকার কারণে তার উপর যে চাপ পড়ছে তাতে তার স্বাভাবিক খেলা নষ্ট হয়েছে। কমে গেছে স্ট্রাইকরেট ও (৯৪.৫ এই সিরিজে)। স্মৃতি মন্ধানা এই সিরিজের সর্বোচ্চ স্কোরার। ৪৪ এর গড়ে ২১৬ রান করেন তিনি। তাঁর সঙ্গেই জেমিমাহ, শেফালি আর হরমনপ্রীত কৌর ছাড়া আর কোনো নির্ভর যোগ্য ব্যাট না থাকার কারণে বিশ্বকাপে ভুগতে হতে পারে ভারত কে।

jess

টসে জিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়িকা মেগ ল্যানিং ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলে প্রথম অভারেই দীপ্তি শর্মার বলে আউট হন হিলি। এই সিরিজে চরম ব্যর্থ তিনি। ৫ ম্যাচে করেন মাত্র ১৫ রান। অন্য ওপেনার বেথ মুনি ৯ টি চারের সহযোগে ৭১ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাকে যোগ্য সঙ্গত দেন প্রথমে গার্ডনার এবং পরে অধিনায়িকা মেগ ল্যানিং। দুজনেই ২৬ রানের ইনিংস খেলেন। তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তাদের স্ট্রাইকরেট। ১০ ওভারের শেষে রান ছিল ৬৫ যা ১৪ ওভারের শেষে দাঁড়ায় ১০৪ রানে। মাঝের তিন ওভারে মাত্র ১০ রান তুলতে পারলেও, অস্ট্রেলিয়ার সহ অধিনায়িকার ৭ বলে ১৮ রানের ইনিংসের দৌলতে ২০ ওভারের শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান পৌছয় ১৫৫ রানে। শেষ তিন ওভারে ওঠে ৪১ রান , যা ম্যাচের নির্ণায়ক হয়ে দেখা দেয়। ভারতের হয়ে দীপ্তি শর্মা ৩০ রানে ২ টি এবং গায়াকোয়ড় ৩২ রান দিয়ে ২ টি উইকেট পান। গায়াকোয়াড় ১০ টি উইকেট নিয়ে এই সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। ব্যাট এবং বল দুই বিভাগের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় ভারতের হলেও ফাইনালে তাদের অসহায় আত্মসমর্পণ দলের চেয়ে ব্যক্তির উপর নির্ভরতাকেই প্রকট করে যা বিশ্বকাপের জন্য মোটেও ভালো সঙ্কেত নয়।