মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 22, 2020
Home সাম্প্রতিক খেলো ইন্ডিয়ায় ২০২০ যুব গেমসের আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক্সে সোনা পেল সব্জি বিক্রেতার মেয়ে...

খেলো ইন্ডিয়ায় ২০২০ যুব গেমসের আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক্সে সোনা পেল সব্জি বিক্রেতার মেয়ে ঋতু

বাবা নিত্যানন্দ দাস স্থানীয় বাজারে সব্জি বিক্রেতা। কোচ মৌনা কর্মকার বলেন আট বছর আগে খামারপাড়া তরুণ সমিতি ক্লাবে আমার কাছে জিমন্যাস্টিক শিখতে এসেছিল। তখন ওর বয়স ছিল ১০। বিম ইভেন্টে ওর খুব প্রিয়।

গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত খেলো ইন্ডিয়া ২০২০ যুব গেমসের আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক্সের অনূর্ধ্ব-২১ বিভাগে সোনা জিতলেন বাংলার মেয়ে ঋতু দাস। হুগলির বাঁশবেড়িয়ার মেয়ে এ দিন ৪৪.১ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম হন এই ইভেন্টে।

বাবা নিত্যানন্দ দাস স্থানীয় বাজারে সব্জি বিক্রেতা। সে কথা জানিয়ে গুয়াহাটি থেকে ফোনে সোমবার ঋতুর মম্তব্য, ‘‘বাংলার বাইরে কোনও প্রতিযোগিতা থেকে এই প্রথম সোনা জিতলাম। রবিবার ইভেন্ট শুরুর আগে খুব টেনশন হচ্ছিল। কিন্তু প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পরে নিজের সেরাটা দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু আর মাথায় ছিল না। এত দিনের পরিশ্রমের সুফল পেলাম। আমাকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকেও সোনা জেতার স্বপ্ন দেখি। তবে তার জন্য আমাকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। এই সাফল্য আমাকে নতুন প্রেরণা দিচ্ছে।’’

গত আট বছর ধরেই ঋতুর কোচ কোচ মৌনা কর্মকার। ছাত্রীর সঙ্গে তিনিও এই মুহূর্তে গুয়াহাটিতে। সেখান থেকেই তিনি বললেন, ‘‘আট বছর আগে খামারপাড়া তরুণ সমিতি ক্লাবে আমার কাছে জিমন্যাস্টিক শিখতে এসেছিল। তখন ওর বয়স ছিল ১০। বিম ইভেন্টে ওর খুব প্রিয়। এ দিন সোনা জেতার পথে অনবদ্য পারফরম্যান্স করেছে ও।’’ মৌনা কর্মকারের সন্তুষ্টির আরও কারণ, গত আট বছর ধরে তারই বাড়িতে থাকা ও খাওয়া চলছে ঋতুর। ঋতুর বাবা ফুটপাতে সব্জি বিক্রি করেন বলে মেয়েকে বাড়তি একটা টাকা দেওয়ারও ক্ষমতা তার নেই। তাই ঋতুর দৈনন্দিন জীবনের পুরো দায়িত্ব নিয়েছেন কোচ মৌনা কর্মকার। তাই রবিবার ছাত্রীর সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কোচ মৌনা। বলেছেন, “আমার এত দিনের পরিশ্রমের কিছুটা হলেও ফল দেখলাম। সামনের দিকে এগোতে ঋতুর এই সাফল্য আমাদের দুজনকেই অনুপ্রাণিত করবে।”