শনিবার, সেপ্টেম্বর 19, 2020
Home টোকিও অলিম্পিক ২০২০ বাইবেল আর মীরাবাই চানুঃ এই দুই অনুপ্রেরণায় টোকিও অলিম্পিক্সের টিকিট নিশ্চিত করতে...

বাইবেল আর মীরাবাই চানুঃ এই দুই অনুপ্রেরণায় টোকিও অলিম্পিক্সের টিকিট নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ী জেরেমি

জেরেমি লালরিনউনগা। কলকাতায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ভারত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ৬৭ কেজি বিভাগে মোট ২৯৯ কেজি তুলে জাতীয় রেকর্ড করেছে। বয়স মাত্র ১৭।

ইয়ুথ অলিম্পিক্সে সোনাজয়ী জেরেমির পাখির চোখ এখন টোকিও অলিম্পিক্সের জন্য জাতীয় দলে ঢোকা। বাবা ছিলেন বক্সার। আইজলে সাই কেন্দ্রে একবার ছোট্ট জেরেমি বক্সিং প্রতিযোগিতায় নামতে গিয়েছিল। কিন্তু ওজন এত কম ছিল যে কোনও বিভাগেই তার নামা হয়নি। সেই অবস্থা থেকে জেরেমির শরীরের শক্তি আর ওজন বাড়ানোর ভাবনা মাথায় আসা। বন্ধুদের অধিকাংশ ভারত্তোলন প্র্যাক্টিস করত। তাদের সঙ্গে আইজলেই এসওয়াইএস অ্যাকাডেমিতে ভারত্তোলন অনুশীলন করা শুরু। সালটা ২০১২। ২০১৮-য় কাতার কাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও জেরেমির স্মৃতিতে এখনও পর্যন্ত সেরা পারফরম্যাম্স ২০১৮-য় ইয়ুথ অলিম্পিক্সে সোনা।

তার সবসময়ের সঙ্গী কে? বাইবেল। মনঃসংযোগ করার জন্য বাইবেল। আর মোটিভেশন? দু’জন। বাবা লাললেকুয়ামা আর মীরাবাই চানু। মঙ্গলবার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে বসে জেরেমি বলল, ‘‘বাইবেল পড়ে মনঃসংযোগ, মোটিভেশন দু’টোই হয়। আর প্রত্যেকদিন রাতে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলি। অন্তত দু’ঘণ্টা! টুর্নামেন্টের আগে, গুরুত্বপূর্ণ কোনও ম্যাচের আগে বাবা, আমার দাদা, মা-প্রত্যেকের সঙ্গে আমিও প্রার্থনা করি। বাবা পেশাদার বক্সিং করতে পারেননি। কিন্তু খেলাধুলোর প্রতি প্যাশন ছিল। তাই ভারত্তোলনে আসলেও আমাকে উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে এতটুকু খামতি নেই তার।’’

আর রয়েছেন মীরাবাই চানু। যার সঙ্গে পাতিয়ালার সাইয়ে জাতীয় শিবিরে নিয়মিত অনুশীলন করা জেরেমির। বলছে, ‘‘আমার পরম প্রাপ্তি মীরাবাইয়ের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারা। ওর অভিজ্ঞতা, ওর টেকনিক, সাধনা—প্রত্যেকটা বিষয় আমি শিখি। মীরা দিদি আমাকে বহুবার হাতে করে শিখিয়ে দেয় টেকনিকের ব্যাপার। কীভাবে প্র্যাক্টিস করতে হবে সেই সম্পর্কেও অনেক জ্ঞান দেয়। মার্চে টোকিও অলিম্পিক্সের শেষ যোগ্যতা অর্জনের টুর্নামেন্ট। সেখানে সেরা পারফরম্যান্সটা করে টোকিওর টিকিট নিশ্চিত করতে চাই।’’