শনিবার, সেপ্টেম্বর 19, 2020
Home ক্রিকেট নাইটের লড়াই গেল বিফলে, হরমনপ্রীতের ব্যাটে ৫ উইকেটে জয় ভারতের

নাইটের লড়াই গেল বিফলে, হরমনপ্রীতের ব্যাটে ৫ উইকেটে জয় ভারতের

১৯ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের এটি চতুর্থ জয়। এর আগের জয় এসেছিল ২০১৮ সালের মার্চ মাসে মুম্বাইতে ৮ উইকেটে। ভারতের পরের ম্যাচ রবিবার , অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর ঃ ইংল্যান্ড ১৪৭/৭ ( নাইট ৬৭, বিউমন্ট ৩৭, গায়াকোয়াড় ২/১৯, দীপ্তি ২/৩০)
ভারত ১৫০/৫ (কৌর ৪২* , সেফালি ৩০, ব্রান্ট ২/৩৩, নাইট ১/২০)
ভারত জয়ী ৫ উইকেটে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-২০তে টানা ৪ ম্যাচ হারের পর জয়ের মুখ দেখলো ভারত। হরমনপ্রীতের ব্যাটে আর স্পিন জাদুতে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারালো ভারত ৩ বল বাকি থাকতেই। ১৯ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের এটি চতুর্থ জয়। এর আগের জয় এসেছিল ২০১৮ সালের মার্চ মাসে মুম্বাইতে ৮ উইকেটে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরাতে টসে জিতে হরমনপ্রীত ফিল্ড করার সিদ্ধান্ত নিলে প্রথম ওভারেই এমি জোন্সের(৪) উইকেট এনে দেন রাজ্যেশ্বরী। ইনসাইড আউট শট খেলতে গিয়ে মিড অফে কৌরের হাতে ধরা পড়েন জোন্স। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই গায়াকোয়াড় আবার ফেরত পাঠান বিধ্বংসী ওপেনার ড্যানিয়েল ওয়াটকে (১)। ভারতের স্পিনারদের দাপটে পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৩৭ রান ই তুলতে পারে ইংল্যান্ড দল যা ১০ ওভারের শেষে দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৫৯ রান। কিন্তু এর মধ্যেই ভারতীয় ফিল্ডাররা ৩টি ক্যাচ ফেলেন। ইংল্যান্ড অধিনায়িকা হেদার নাইটের প্রথম ক্যাচ পড়ে ৬ রানে যখন জেমিমাহ মিড উইকেটে তাঁর ক্যাচ ফেলেন এবং লং অনে যখন ১৩ রানে ভেদা ক্যাচ ফেলেন তাঁর। একি সঙ্গে নাটালিয়া সিভারের ক্যাচ ফেলেন ভারতীয় অধিনায়িকা হরমনপ্রীত কৌ্র, রাধা যাদবের বলে। দশম ওভারের শেষ বলে উইলসন বোল্ড হলেও রিপ্লেতে দেখা যায় পান্ডের পায়ের অংশ হয়ত পপিং ক্রিজের বাইরে রয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যা নো বল হয় তা কিন্তু বেনিফিট অফ ডাউট বোলারের পক্ষেই দেন টনি ওয়াইল্ডস।

Rajeswari

নিজের দুটো ক্যাচ পড়ার পর সেই সুযোগ পুরোদমে নিলেন নাইট। রিভার্স সুইপ আর সুইপের ফুলঝুরিতে নাইট ৪৪ বলে ৬৭ রান করলেন যার মধ্যে ছিল ৮ টি রান এবং ২টি ছয়। স্পিনারদের বিপক্ষে নাইট ৩৩ বলে ৬টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে করেন ৫০ রান। টি-২০তে নিজের দ্বিতীয় অর্ধ-শতরান করার সঙ্গেই নিজের সর্বোচ্চ রান করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গত দিলেন ট্যামি বিউমন্ট (৩৭) । দুজনে মিলে ৫ই উইকেটের জন্য ৪৫ বলে ৬৯ রান জোগ করেন। যার দৌলতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৭রান তুলতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। ১৮ তম ওভারে নাইট এবং পরের ওভারেই বিউমন্ট যিনি ৪ টি চার সহযোগে ৩৭ রানে ব্যাটিং করছিলেন আউট না হলে আরো রান বাড়তে পারত ইংল্যান্ডের। দুজনের ব্যাটের উপর ভর করে শেষ ১০ ওভারে ৮৮ রান তোলে । দুই স্পিনার দীপ্তি আর গায়াকোয়াড় দুই উইকেট পান এবং শিখা পান্ডে নাইট এবং ফ্রান উইলসনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

Haether Knight

জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে এক্লেস্টোনের বাঁ হাতি স্পিনের সামনে সেফালিকে নড়বড়ে দেখালেও সেই ওভার থেকে ৬ রান তোলে ভারত। পরের ওভারের প্রথম বলে স্মৃতি মন্ধানা ব্রান্টের বল থার্ডম্যানের দিকে খেলতে গেলে তা তালু বন্দী করেন জোন্স। ফিরেই যাচ্ছিলেন স্মৃতি কিন্তু হরমনপ্রীত কৌ্র বাউন্ডারির বাইরে থেকে অঙ্গভঙ্গি করতে তৃতীয় আম্পায়ার রিভিউএর নির্দেশ দেন। রিপ্লেতে দেখা যায় জোন্স বল ধরলেও মাটিতে পড়ার সময় তাঁর হাত থেকে বল মাটিতে পড়ে যায়। জীবন পেয়ে সেই ওভারে তিনটি চার মারেন। প্রথম চার বোলারের মাথার উপর দিয়ে এবং পরের দুটি চার শর্ট পিচ বলে লেগ সাইডে, ট্রেড মার্ক স্মৃতি মন্ধানা। স্মৃতি মন্ধানা আর সেফালি ভার্মার দৌলতে পাওয়ার প্লেতে ভারত তোলে ৫২ রান যদিও মন্ধানা, সিভারেরবলে পুল শট খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন লরেন উইনফিল্ডের হাতে। ব্যাটের পর বলেও নিজের দক্ষতা প্রমান করেন নাইট। নিজের প্রথম ওভারেই সেফালিকে (৩০) আউট করেন তিনি। জেমিমাহ রড্রিগেজ আর সেফালির জন্য ১০ ওভারে তোলে ওঠে ৮০ রান, ইংল্যান্ডের থেকে ২১ রান বেশি ।

ইদানিং কালে তেমন রান পাচ্ছিলেন না কৌর। এই সিরিজটা তাঁর ও নিজেকে প্রমাণ করা সিরিজ। ডোমেস্টিকে ৪ নং এনেমেছেন কিন্তু শেষ অবদি খেলতে পারেননি। ফলে দলে ফিনিসারের অভাব লক্ষ করার মত ছিল। এই ম্যাচে তিনি প্রথমে সময় নেন। তাঁর প্রথম ১১ রান আসে ১৪ বলে। লেগ স্পিনার সারা গ্লেনের বলে দুটি চার মেরে নিজের উপর থেকে চাপ কমান। উলটো দিকে যখন একের পর একে ফিরে গেছেন ভেদা কৃষ্ণমূর্তি (৭) , তানিয়া ভাটিয়া (১১) এবং জেমিমাহ (২৬) তখন ও নিজের স্থীতধী মানসিকতা হারাননি। ভাটিয়া আউট হওয়ার পর ১৮ বলে দরকার ছিল ২৬ রান। দীপ্তি শর্মার উইকেটের পিছনে মারা চারের দৌলতে সেই ওভারে ওঠে ৯ রান। পরের ওভারের প্রথম বলেই দীপ্তি শর্মার ক্যাচ পড়ে ডিপ মিড উইকেট, সিভারের বলে। আর তাঁর পরের বলেই কৌর থার্ড ম্যান দিয়ে চার মেরেই প্রয়োজনীয় রানের পরিমাণ কমিয়ে আনেন ১৩ রানে। ১৯ত্ম ওভারে সিভারে বল থেকে নেওয়া ১১ রানই ভারতের জয় সুনিশিত করে ব্রান্ট যখন শেষ ওভারে বল করতে আসেন তখন ভারতের দরকার মাত্র ৬ রান। প্রথম দুবলে ১ রান করে নেওয়ার পর ক্লাসিক ইনসাইট আউট শটে কভারের উপর দিয়ে ছয় মেরে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন কৌর। কৌর অপরাজিত থাকেন ৩৪ বলে ৪২ রানে যার মধ্যে ছিল ৫টি চার এবং শেষ বলে মারা ৬। ইংল্যান্ডের পক্ষে ব্রান্ট ২ উইকেট নিলেও খরচ করেন ৩৩ রান । নাইট এবং এক্লেস্টোন দুজনেই রান আটকাতে সচেষ্ট হলেও তা দলের জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

জিতলেও আগামী রবিবারের জন্য ভারতের দুশিন্তা কিন্তু কমল না । ফিল্ডিং করতে গিয়ে পূজা বস্ত্রকারের চোট যেমন চিন্তা রাখবে তেমনি খারাপ ফিল্ডিংও মাথা ব্যাথার কারণ হবে ভারতের। বিজু জর্জ ফিল্ডিং কোচ হিসেবে যতদিন ছিলেন ততদিন ভারতের ফিল্ডিংএর মান যথেষ্ট উন্নত ছিল, কিন্তু নতুন কোচের চিন্তার কারণ হবে আজকের খারাপ ফিল্ডিং। মাঝের ওভারে পঞ্চম বোলারের ওভাবও ভোগাতে পারে ভারতকে। ভারতের পরের ম্যাচ রবিবার , অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।