মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 1, 2020
Home ক্রিকেট স্পিনারদের সামলে পেরি প্রতাপে ভারত বিজয় অজিদের

স্পিনারদের সামলে পেরি প্রতাপে ভারত বিজয় অজিদের

সংক্ষিপ্ত স্কোর ভারত ১০৩/৯, ২০ ওভারে (স্মৃতি ৩৫, হরমনপ্রীত ২৮, পেরি ৪/১৩, ভ্লায়েমনিক ৩/১৩)
অস্ট্রেলিয়া ১০৪/৬ ১৮.৫ ওভারে (পেরি ৪৯, গার্ডনার ২২, গায়াকোয়াড় ২/১৮, দীপ্তি ১/১৮)
অস্ট্রেলিয়া জয়ী ৪ উইকেটে।

আগের ম্যাচের জয়ের পর এলিস পেরির দৌলতে ত্রি-দেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই হারের মুখ দেখতে হল ভারতকে। ব্যাটিং ব্যার্থতা আর এলিস পেরীর আগুনে বোলিং এর সামনে কুঁকড়ে যাওয়ার পর আবার সেই এলিস পেরির শান্ত স্থিতধী ইনিংসের কাছেই হার মানল ভারত। ১৬ ম্যাচে এটি তাদের ১২ তম পরাজয় অস্ট্রেলিয়ার কাছে।

মেগ ল্যানিং এর চোটের জন্য ম্যাচ খেলতে না পারার জন্য অস্ট্রেলিয়ার দায়িত্ব ন্যাস্ত ছিল রাচেল হেইন্সের কাঁধে। তিনি টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠালে প্রথম ওভারেই স্মৃতি আর সেফালি মিলে তুলে দেন ১৫ রান । কিন্তু পরের ওভারের প্রথম বলেই সেফালি ভার্মাকে বোল্ড করেন এলিস পেরি। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে আউট হন জেমিমা রড্রিগেজ। এরপর দলের হাল ধরেন স্মৃতি মন্ধানা এবং অধিনায়িকা হরমনপ্রীত কৌর। দুজনের জুটিতে ৩৯ বলে ওঠে ৪০ রান। স্মৃতি ২৩ বলে ৩৫ রান করার পর জেস জোনাসনের বলে আউট হন আর তারপরেও কৌর দায়িত্ব নিয়ে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ১৩ ওভারের শেষে ভারতের রান ছিল ৩ উইকেটে ৭৮। স্লো হতে থাকা উইকেটে ভারত অন্তত ১২০-১৩০ রানের লক্ষ্য রেখেই এগোচ্ছিল। কিন্তু আগের ম্যাচে প্রথম ৭ ওভারের মধ্যেই এলিস পেরির ৪ ওভার শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য পরের দিকে আর রান আটকাতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। আজকে সেট হতে থাকা হরমনপ্রীতের জন্য তার সেরা অস্ত্রকে ব্যাবহার করলেন হেইন্স। আর প্রথম বলেই স্লো বাউন্সারে উপার কাট খেলতে গিয়ে থার্ডম্যানে ধরা পড়েন হ্যারি। তার ৩২ বলের ২৮ রানের ইনিংস ছিল ৪ টি চার দিয়ে সাজানো। পরেই বলেই পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েই ফিরে যান তানিয়া ভাটিয়া। দুই বল পরে একি ভঙ্গীতে আউট হল দীপ্তি শর্মা। শেষ বলে রেড্ডি চার না মারলে আরো খারাপ হত ভারতের রান। ১৫ তম ওভারে ভেদা কৃষ্ণমুর্তি ফেরেন মিড অফে ক্যাচ দিয়ে। ১০ বলে ৪ রানে ৫ উইকেট হারায় ভারত। গতি আর বাউন্সের দুই ওভারেই ভারতের মিডল অর্ডারের যাবতীয় প্রতিরোধ শেষ। বরাবরই মিডল অর্ডার ভারতের চিন্তার কারণ হ্যে উঠেছে। প্রথম চার জনের পর আর কোনো বিশ্বমানের ব্যাটারের না থাকা বিশ্বকাপে ভারতের দুশ্চিন্তা বাড়াতে পারে। শেষ লগ্নে রাধা যাদব ১১ রান করতে না পারলে ১০০ এর গন্ডিও ছুঁতে পারত না ভারত। এলিস পেরি ১৩ রান দিয়ে পান ৪ উইকেট আর ভ্লায়েমনিক ১৩ রান দিয়ে পান ৩ উইকেট। ১২০ বলের মধ্যে ৬৬ বলে ভারতীয়রা কোনো রান করতে পারেননি, বাকি বলের মধ্যে ১১ টি চার এবং কেবল ১টি ছয় মারতে সক্ষম হন হ্যারি অ্যান্ড কো।

kaur perry

জয়ের জন্য ১০৪ তাড়া করতে হলেও শুরুটা খুব সহজ ছিল না। প্রথম ওভারে দীপ্তি শর্মার বিপক্ষে ওঠে মাত্র ১ রান। আর নিজের পরথম ওভারেই শিখা পান্ডে আউট করেন গত দুবছরে বিধ্ব্বংসী ফর্মে থাকা এলিসা হিলিকে। কভারের উপর দিয়ে খেলতে গিয়ে দীপ্তি শর্মার হাতে ধরা পড়েন। আগের ম্যাচে রান না পাওয়া গার্ডনার প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন এবং গায়াকোয়াড়ের বলে কাট শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হওয়ার আগে ১৪ বলে ২২ রানের ইনিংস খেলে যান। বেথ মুনিকে প্রথম থেকেই অস্বস্তিতে রাখেন ভারতীয় স্পিনাররা ও আগের ম্যাচের ৬৫ রানের পর আজকে মাত্র ৬ রান করে দীপ্তি শর্মার বলে স্টাম্পড আউট হন। অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা যদি গতি আর বাউন্সকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় ব্যাটারদের অসুবিধায় ফেলেছিলেন তবে ভারতীয় স্পিনাররা তার পাল্টা দিলেন স্পিন আর গতির তারতম্য ঘটিয়ে। তাদের আরো সুবিধা হয়েছিল টানা তিন দিনের গরমে ফাটতে থাকা পিচের জন্য। পাওয়ারপ্লের শেষে অজিদের রান দাড়ায় ৩ উইকেটে ৩১। পিঠের চোটের কারনে মেগ ল্যানিং এই ম্যাচে না খেলায় দলের দায়িত্ব গিয়ে পরে এলিস পেরি আর রাচেল হেইন্সের উপর । দুজনের করা ২২ রানের পার্টনারশিপ এই কম রানের লক্ষ্যকে জয় করার পক্ষে খুবই উপযোগী হয়ে দাঁড়ায় এবং যদিও হেইন্স ৯ রান করে রেড্ডির শিকার হন তবুও পেরী তার ঠান্ডা মাথায় দলকে ধীরে ধীরে জয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

একের পর এক ডট বল খেললেও কখনোওই মনে হয়নি তিনি অস্বাস্তির মধ্যে আছেন। রাধা যাদবের এক ওভারে পর পর দুটি চার মেরে নিজের উপর থেকে চাপ কমান তিনি। পরের ওভারেই যখন মনে হয়েছে আস্কিং রেট বেড়ে যাচ্ছে তখনই অরুন্ধতি রেড্ডিকে প্রথমে কভারের মধ্যে দিয়ে এবং পরের বলেই মিড উইকেটের উপর দিয়ে চার মেরে বোঝান কেন তিনি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার। রাধা যাদবের বলে ৬ মেরে ম্যাচ শেষ করতে গিয়ে তিনি যখন আউট হন তখন জ্যের জন্য বাকি মাত্র ৫ রান। তার ৪৭ বলে ৪৯ রানের ইনিংস ছিল ৮টি চার দিয়ে সাজানো। জেস জোনাসনের সঙ্গে জুটিতে করা ৩০ রান জয়ের দিকে একধাপ এগিয়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। একথা বলাই বাহুল্য মাত্র ১০৩ রানের পুঁজি নিয়ে ভারতীয় বোলাররা যে লড়াই করেছেন তা কখনোই খাটো করে দেখা যায় না। বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনের বিপক্ষে যেখানে দলের ১০ নম্বর খেলোয়াডের ব্যাটের হাত ভাল , সেখানে ১১৩ টি বলের মধ্যে ৬১ টি ডট বল করা অবশ্যই সম্ভ্রম আদায় করে নেয়। কোনো ভারতীয় সমর্থকই হয়ত ভাবেননি ১৯তম ওভার অবদি খেলা গড়াবে। দীপ্তি শর্মার (১/১৮), গায়াকোয়াড়ের (২/১৮) এর দৌলতে খানিকটা চাপে রাখতে অবশ্যই পেরেছিল ভারতীয় দল। কিন্তু পেরি নামক অতিমানবীর দৌলতে ২ পয়েন্ট কেড়ে নিতে সক্ষম হয় অস্ট্রেলিয়া।

ভারতের পরের ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮ তারিখ মেলবোর্নে। তার আগে মিডল অর্ডারের সমস্যা দূরকরার পাশাপাশি ভারতকে ভোগাবে চোট আঘাত । আগের ম্যাচে পূজা বস্ত্রকার আর রিচা ঘোষের পর এই ম্যাচে এলিস পেরির স্ট্রোক আটকাতে গিয়ে চোট পেলেন অরুন্ধতী রেড্ডী। পরের ম্যাচে পুনম যাদবের একাদশে ফেরার সম্ভবনা যদিও রয়েছে কিন্তু প্লেয়ারদের ফিটনেস চিন্তায় রাখবে ভারতীয় ম্যানেজমেন্টকে।