বুধবার, সেপ্টেম্বর 23, 2020
Home ফুটবল ভোটার কার্ডে নাম বদলাতে গিয়ে হেনস্থার মুখে রুপান্তরকামী প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার বনি...

ভোটার কার্ডে নাম বদলাতে গিয়ে হেনস্থার মুখে রুপান্তরকামী প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার বনি পাল

বন্দনা থেকে বনি পাল হয়েছেন বেশ কয়েকবছর আগে।চাকরি পেয়েছেন বনি পাল নামেই। আধার কার্ড ও প্যান কার্ড সবই বনি পাল নামে।

ফের লাঞ্ছনা-গঞ্জনার শিকার বাংলা তথা জাতীয় টিমের মেয়ে প্রাক্তন ফুটবলার বন্দনা পাল। যিনি বন্দনা থেকে বনি পাল  হয়েছেন বেশ কয়েকবছর আগে।ভোটার কার্ডে নাম বদলাতে গিয়ে নতুন বিপত্তির মুখে বনি। যিনি মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়েছেন। বিয়ে করেছেন। চাকরি পেয়েছেন বনি পাল নামেই। আধার কার্ড ও প্যান কার্ড সবই বনি পাল নামে।

বুধবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগণার গাইঘাটা ইচ্ছাপুর এক নম্বর ব্লকে গিয়েছিলেন বনি। ভোটার কার্ডে নাম পরিবর্তনের জন্য শুনানি দিতে। সঙ্গে ছিলেন দিদি শঙ্করী পাল। তৃণমূল পরিচালিত সেই গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান তিনি। তাঁর উপরোধ-অনুরোধও শোনেননি দায়িত্ব প্রাপ্ত সরকারি আধিকারিকরা। রাতে বনি দুঃখের সঙ্গে বলেন, ‘হাজার হাজার লোক লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার মধ্যে আমার জীবনের কথা সবটাই বলেছি। এও বলেছি, ছিলাম মেয়ে, তারপরে ছেলে হয়েছি। এই দেখুন আধার কার্ডে বনি পালের নাম। কোনও কথাই শুনলেন না ওঁরা। কাগজ-পত্র হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, এই কেস এ ভাবে হয় না। আপনি মেয়ে, ছেলে কোথা থেকে হলেন? পাল্টা প্রশ্ন শুনতে হল।’

বনির সংযোজন, ‘আমার দিদি পঞ্চায়েত প্রধান, নিজের পরিচয় দিয়ে আধিকারিকদের দিদি বলেছিলেন, ‘ও আমার বোন ছিল, এখন ভাই হয়ে গিয়েছে। সেভাবেই ভোটার কার্ড তৈরি করে দিন। দিদির সেই অনুরোধও ধোপে টেঁকেনি।’

বনি বলছেন, ‘‘জীবনে প্রচুর লাঞ্ছনা-গঞ্জনার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে বহুদিন। মনে হয় আবার সেই দিনটা ফিরতে চলেছে। চার বছর আগে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে নাম বদলের এফিডেবিট করিয়েছিলাম। সেই কাগজের কোনও দাম নেই?’ বনি নিজের মনেই প্রশ্ন করলেন। এরপরে কী করবেন? প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে পারলেন না। বললেন, ‘আমার অপরাধটা কী, তাই বুঝলাম না। এই সমাজে আমাদের কোনও স্থান নেই।’’