মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 22, 2020
Home ক্রিকেট সিভার-স্রাবসোল জুটির কাছে পরাজিত ভারত, ৪ উইকেটের হারের পর প্রায় হাতছাড়া ফাইনাল।

সিভার-স্রাবসোল জুটির কাছে পরাজিত ভারত, ৪ উইকেটের হারের পর প্রায় হাতছাড়া ফাইনাল।

ভারত ১২৩/৬ ( স্মৃতি ৪৫, জেমিমাহ ২৩, স্রাবসোল ৩/৩১, ব্রান্ট ২/২৩)
ইংল্যান্ড ১২৪/৬ ( সিভার ৫০, উইলসন ২০*, গায়াকোয়াড় ৩/২৩, রাধা ১/২৪)
ইংল্যান্ড জয়ী ৪ উইকেটে।ম্যাচের সেরা আন্যা স্রাবসোল।

মেলবোর্নে টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে আমন্ত্রণ করেন হেদার নাইট৷ শুরুটা ভালো ছিল ভারতের। প্রথম চার ওভারের শেষে রান ছিল বিনা উইকেটে ৩২ যার বেশির ভাগটাই আসে স্মৃতি মন্ধানার ব্যাট থেকে। আগের ম্যাচে বেঞ্চে বসার পর এই ম্যাচে সারা গ্লেনের স্থানে যায়গা হয় স্রাবসোলের। নিজের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই বোল্ড করেন সেফালিকে (৮)। এর পর থেকেই রানের গতিতে ব্রেক কাগে ভারতের ব্যাটিং এ। পরবর্তী ৬ ওভারে ভারত তোলে মাত্র ৩০ রান। স্মৃতি মন্ধানা লেগে ফ্লিক করতে গিয়ে উইকেট কিপার জোন্সের কাছে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেন ৪০ বলে ৪৫ রান৷ তার ইনিংস সাজানো ছিল ৭ টি চার এবং একটি ছয় দিয়ে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ন সময়ে স্মৃতি, জেমিমাহর উইকেট হারানোর ফলে রানের গতি বাড়েনি। স্মৃতি আউট হওয়ার পর দলের হাল ধরেন জেমিমাহ এবং অধিনায়িকা হরমনপ্রীত। দুজনে মিলে যোগ করেন ২২ রান, স্রাবসোলের স্লোয়ার বলে আউট হয়ার আগে জেমিমাহ করেন ২৩। আগের ম্যাচ গুলোর মতই মিডল অর্ডার নিয়ে ভারতের চিন্তা বজায় থাকল। ভেদা কৃষনমূর্তি, দীপ্তি শর্মা, তানিয়া ভাটিয়া সবাই রান বাড়াতে ব্য্র্থ। ১৯ তম ওভারে আউট হোয়ার আগে হরমানপ্রীত করে যান ২২ বলে ১৪। বিপক্ষের উপর আক্রমণ নিয়ে যাওয়ার আগেই স্রাবসোলের বলে মিড অফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। নিজের শেষ ওভারে ১৫ রান দেওয়ার আগে, গতির হেরফের ঘটিয়ে নিজের ৩ ওভারে তিনি মাত্র ১৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। শেষ ওভারে ১৫ রান করার দৌলতে ভারত পৌছয় ১২৩ রানে। উইকেট না পেলেও নাইট ৩ ওভারে দেন মাত্র ১০ রান। যে ম্যাচে ক্যাথেরিন ব্রান্ট ২ উইকেট পান তার ৮৯% ম্যাচে ইংল্যান্ড হারেনা। এই ম্যাচেও ২৩ রান দিয়ে ২ উইকেট পান তিনি।

smriti

তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই জোন্সের উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। গায়াকোয়াড়ের বাম হাতি স্পিনের একটি সোজা হয়ে আসা বলকে লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড অফ ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। ওয়াট আক্রমণাত্মক শুরু করলেও রাধা যাদবের বলে কাট কররে গিয়ে পয়েন্টে থাকা গায়াকোয়াড়ের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। ইংল্যান্ড তার তৃতীয় উইকেট হারায় ২৮ রানে। দীপ্তি শর্মার এক্টি বল সিভার সোজা বোলারের দিকে খেললে দীপ্তির হাতে লেগে উইকেটে লাগে এবং ক্রিজের ধারে কাছেও ছিলেন না ব্রান্ট। ব্রান্ট এবং সিভার দুজনে সমপর্কে আবদ্ধ এবং তাদের এই রান আউট ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দক্ষিন আফ্রিকার কাপ আর নিকার্কের আউটকে মনে করায়।
দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নাইট দলের হাল ধরেন সিভারের সাথে৷ স্পিনাররা তাদের বেগ দিলেও দুজনে ৩৭ রান যোগ করে দলকে স্থিতাবস্তায় এনে দেন। গায়াকোয়াড় ১৮ রানে নাইট কে আউট করলে ভারতের ম্যাচে ফেরার ইংিত দেখা দেয়। ইংল্যান্ডের তখনো ৫৩ বলে ৫৯ দরকার ছিল। কিন্তু হরমনপ্রীতের রক্ষণাত্মক ফিল্ড সেটিং ফ্রান উইলসন আর সিভারের মধ্যে হয়া ৩৮ বলে ৪৯ রানের পার্টনারশিপ দলের জয় সুনিশ্চিত করে৷ ৬ টি চার আর একটি ৬ মেরে ৩৮ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ন করার পরেই আউট হন সিভার। বিউমন্ট রান আউট হলেও তা ৪ উইকেটে ইংল্যান্ডের জয় আটকাতে পারেনি।

shrubsole


ভারতের স্পিনাররা আবারো দলের বোলিং আক্রমনের পুরোভাগে ছিলেন। গায়াকোয়াড় এই সিরিজে ৭ উইকেট পেয়েছেন এবং বিশ্বকাপে ভারতের ট্রাম্পকার্ড হয়ে উঠতে পারেন৷ তিনি একদিকে যেমন শুরুর দিকেও উইকেট পেয়েছেন তেমনি পেয়েছেন ইনিংসের শেষ দিকেও। যোগ্য সহায়তা করেছেন দীপ্তি, রাধা৷ পুনম যাদব দলে ফিরলে আরো শক্তিশালী হবে ভারতীয় স্পিনভাগ।

এই জয়ের ফলে ফাইনালের দিকে একধাপ এগোলো ইংল্যান্ড। ভারতের আগামী ম্যাচ আগামীকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে৷ আরেকবার ভারত সুযোগ পাবে পরীক্ষা-নীরিক্ষার। তাদের দলকে সাজিয়ে নেওয়ার জন্য। মিডল অর্ডারকে গুছিয়ে নেওয়ার।