রবিবার, সেপ্টেম্বর 20, 2020
Home ক্রিকেট সেফালি-স্মৃতিতে অজি বিজয় ভারতের, একাধিক রেকর্ড ভেঙ্গে জিইয়ে রাখল ফাইনালের আশা।

সেফালি-স্মৃতিতে অজি বিজয় ভারতের, একাধিক রেকর্ড ভেঙ্গে জিইয়ে রাখল ফাইনালের আশা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর- অস্ট্রেলিয়া ১৭৩/৫ ( গার্ডনার ৯৭, ল্যানিং ৩৭, দীপ্তি ২/২৭, হারলিন ১/২১)
ভারত ১৭৭/৩ ( স্মৃতি ৫৫, শেফালি ৪৯, কেরি ১/২৭ , স্কাট ১/২৬)
ভারত জয়ী ৭ উইকেটে
ম্যাচের সেরা – অ্যাশলে গার্ডনার

এই ম্যাচের আগে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে ভারতের জয় ছিল ২০১৮তে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে।সেই ম্যাচে তারা ১৬৪ রান তাড়া করে জিতেছিলেন। ব্যাটিং বিক্রমে সেই রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের পঞ্চম জয় ছিনিয়ে নিল ভারত। এর সাথে রান তাড়া করে জেতার লিস্টে এই ম্যাচ চলে এল ৪ নম্বরে। এবং এক সঙ্গে খুলে দিল ত্রি-দেশীয় সিরিজের ফাইনালে যাওয়ার ক্ষীণ আশা। আর স্মৃতি মন্ধনা, জেমিমাহর সাথে এই জয়ের কারিগর ১৬ বছরের ভারতীয় ওপেনার শেফালি ভার্মা।

টসে জিতে হরমনপ্রীত, অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানালে তাদের শুরুটা ভালো হয়নি। পরথম ওভারেই এলিসা হিলির উইকেট তুলে নেয় দীপ্তি শর্মা। দ্বিতীয় উইকেটের জন্য গার্ডনার এবং বেথ মুনি যোগ করেন ৬২ রান যার মধ্যে সিংভাগটাই ছিল গার্ডনারের ব্যাট থেকে। পিঠের চোট কাটিয়ে এই ম্যাচে ফেরা অজি অধিনায়িকা মেগ ল্যানিং করেন ৩৩ রান। তার ইনিংস সাজানো ছিল ৬ টি চার দিয়ে। আউট হওয়ার আগে গার্ডনার ৫৭ বলে করে যান চোখ ধাঁধানো ৯৭। ১১ টি চার এবং ৩ টি ছয় মেরে ছিন্নভিন্ন করতে থাকেন ভারতীয় বোলিং আক্রমণকে। তার ব্যাটিং এর দৌলতে অস্ট্রেলিয়া তোলে ৫ উইকেটে ১৭৩ রান। ভারতের পক্ষে অফ স্পিনার দীপ্তি শর্মা ২৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।

gardner

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাট করতে থাকে ভারত। ১৬ বছরের শেফালি ভার্মা জিনি প্রথম ম্যাচের পর রান পাননি, আজকে প্রমাণ করলেন কেন তাকে ভবিষ্যতের তারা বলা হচ্ছে। প্রথম ওভারে ১১রান করার পর এলিস পেরির ওভারে মারা তিনটে চার , তার নিজের প্রতিভাকে চেনায়। একদিকে যখন শেফালি বিধ্বংসী হয়ে উঠেছেন তখন স্মৃতি, অন্যপ্রান্তে উইকেট আগলে ছিলেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ভারতের রান ছিল যথাক্রমে ১১,১২,১১,১৪,১৪,৮- মোট ৭০, এই সিরিজে সর্বোচ্চ। এই ৭০ রানের মধ্যে সেফালির রান ছিল ২৩ বলে ৪৬। বোলারের মাথার উপর দিয়ে মেগান স্কাটকে মারা শেফালির ছয় , দর্শকদের মনে থাকতে বাধ্য। এলিস পেরির বলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে পর্যন্ত শেফালির সংগ্রহে ছিল ৮টি চার এবং ১ টি ছয় সহযোগে ৪৯ রান। প্রথম উইকেটে সেফালি-স্মৃতি জুটির করা ৫০ বলে ৮৫ রান ভারতের জয়ের ভিত্তিপ্রস্তর গড়ে দেয়। একি সঙ্গে তারা ভেঙ্গে দেন ভারতের হয়ে টী-২০ ক্রিকেটে প্রথম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও যা আগে স্মৃতি এবং মিতালি রাজের দখলে ছিল। শেফালি ফিরে যাওয়ার পর রানের গতি একটু কমেলও জেমিমাহ – স্মৃতি ২৫ বলে ৩৭ রানের যে পার্টনারশিপ করেন তাতে জেমিমার অব্দান ছিল ১৯ বলে ৩০ রানের। শেফালি আর জেমিমাহ ঝোড়ো ব্যাটিং এর জন্যই রানরেট কখনোই ঘাড়ে চেপে বসেনি। ফলে স্মৃতি এবং পরে হরমনপ্রীত সহজেই দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান। প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেটে ১০০ রান করে ফেলার ফলে ১৭৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা খুব কঠিন হয়ে ওঠেনা ভারতের কাছে।

smriti

বিশ্বকাপের আগে ভারতের কোচ রমন, স্মৃতিকে পরামর্শ দেন যাতে তিনি অন্তত ১২ ওভার উইকেটে থাকেন। এই সিরিজে সেই নির্দেশ মেনে চলার চেষ্টা করেছেন তিনি। একদিকে যখন সেফালি-তান্ডব চলছে অন্যদিকে তিনিও খুব বেশি ঝুঁকি না নিয়ে স্কোর বোর্ডকে সচল রাখেন। তার আজকের ৫৫ রানের ইনিংসে তিনি মেরেচেন মাত্র ৫ টি চার যা কখনওই স্মৃতিসুলভ নয়, এবং তার আকের স্ট্রাইকরেট (১১৪) তার করআ সবকটি পঞ্চাশোর্দ্ধ ইনিংসের মধ্যে কম হলেও, দলের জন্য ছিল দরকারী। জেমিমাহ যখন আউট হন তখন ভারতের দরকার ছিল ৪৫ বলে ৫৪।যা অধিনায়িকা হরমনপ্রীত আর স্মৃতির জুটিতে অনেক সহজ হয়ে যায়। স্মৃতি মেগান স্কাটের বলে আউট হওয়ার পর দলের উপর চাপ বাড়লেও পরের ওভারের শেষ বলে দীপ্তি শর্মা চার মেরে সেই কাজ অনেক সহজ করে দেন এবং ২০ তম ওভারের ৪র্থ বলে তিনিই এনে দেন গুরুত্বপূর্ণ জয়। হরমনপ্রীত একবার নিজের প্রথম বলেই নিশ্চিত এলবিডব্লিউএর হাত থেকে বাঁচেন এবং ইনিংসের শেষের দিকে তার কঠিন ক্যাচ ফেলে দেন মেগান স্কাট।প্রথম বলেই আউট হলে ভঙ্গুর মীডল-অর্ডারের সামনে গল্পটা আলাদা হতেই পারত। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এলিস পেরি ৩৩ রান দিয়ে ১টি এবং মেগান স্কাট ২৬ রান দিয়ে ১ টি উইকেট পান।

৭ উইকেটে এই জয়ের ফলে ভারত তার ফাইনাল খেলার ক্ষীণ আশা বজায় রাখল। ৪ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ভারত তিন দেশের সিরিজে ২ নম্বরে আছে। কালকের ম্যাচে ইংল্যান্ড যদি অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেয় তাহলে ১২ তারিখ ভারত বনাম ইংল্যান্ড ফাইনাল দেখার সম্ভবনা থেকে যায়। নইলে ভরসা রাখতে হবে রানরেটের উপর।