রবিবার, ডিসেম্বর 6, 2020
Home ক্রিকেট ব্যর্থ এমিলিয়া কারের লড়াই ঃ ব্যাটিং ব্যর্থতা সত্ত্বেও বোলারদের দাপটে সেমিফাইনাল...

ব্যর্থ এমিলিয়া কারের লড়াই ঃ ব্যাটিং ব্যর্থতা সত্ত্বেও বোলারদের দাপটে সেমিফাইনাল নিশ্চিত ভারতের

তিন ম্যাচে তিন জয়ের ফলে সেমিফাইনলা নিশ্চিত করে ফেলল ভারত , যদিও একাধিক ক্ষেত্রে ভারতের এখনো উন্নতি দরকার। তিন ম্যাচেই বোলিং এর উপর ভর করে জিতল ভারত।ব্যাটিং নিয়ে কমল না চিন্তা। পরের ম্যাচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ম্যাচের সেরা শেফালি ভার্মা।

বিশ্বকাপের আগেই ভারতীয় মিডল অর্ডার ছিল ম্যানেজমেন্টের কাছে চিন্তার যায়গা। দলের প্রথম চার ব্যাটের পর মিডল অর্ডারে রান করার বয়া শেষের দিকে ঝোড়ো ব্যাটিং করার অভাব ছিল লক্ষণীয়। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দীপ্তি শর্মার অপরাজিত ৪৯ এর দৌলতে ১৩২ রান এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে শেফালি ভার্মার ৩৯ রান ছাড়াও প্রত্যেকে অল্প কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ যোগদান করেন।  কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই স্লো উইকেটে ভারতীয় বোলাররা ভারতকে ম্যাচ জিতিয়ে দেন, যেখানে স্পিনারদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

Sefali

নিউজিল্যান্ড টসে জিতে ফিল্ডীং করার সিদ্ধান্ত নিলে , আগের ম্যাচে জ্বরের জন্য না খেলা স্মৃতি মন্ধানার উইকেট হারায় ভারত তৃতীয় ওভারে। নিজের ১১ রানের মধ্যেই দুটি চার মারেন যার মধ্যে প্রথমটি ছিল লিয়া তাহুহুর বলে কভারের উপর দিয়ে। কিন্তু সেই তাহুহুর বলেই স্কোয়ার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি। নিজের দলের ব্যাটিং এ গভীরতা আনার জন্য তানিয়া ভাটিয়া জেমিমার জায়গায় নামেন এবং তিনি আর শেফালি ভার্মা ২য় উইকেটের জন্য ৪১ বলে ৫১ রানের জুটি করেন। আগের দুই ম্যাচের মতই শেফালি ভার্মা ঝোড়ো ব্যাটিং করতে থাকেন। ১৫ বলে ২৯ এবং ১৭ বলে ৩৯ রানের ইনিংস এর পর আজকে তিনি ৪টি চার এবং ৩টি ছয়ের সাহায্যে ৩৪ বলে করেন ৪৬ রান।   অন্যদিকে ভাটিয়া করেন ২৩ রান। পাওয়ারপ্লের শেষে রান ওঠে ১ উইকেটে ৪৯ এবং ১০ ওভারের শেষে ভারত দুই উইকেট হারিয়ে ৭৫ রান করেন।

যখন ই মনে হচ্ছে শেফালি এবং জেমিমাহর দৌলতে ১৫০ রানের গন্ডি পেরোতে পারে ভারত তখন উইকেটের মিছিল শুরু হয়। মিডল অর্ডারের একের পর এক ব্যাটার নিজেদের উইকেট হারাতে থাকেন। আগের ম্যাচের পরই অধিনায়িকা হরমনপ্রীর কৌর বলেছিলেন যে ৭ থেকে ১৫ নম্বর ওভারের ব্যাটিং ই তার দলের দুশিন্তার কারণ। তার কথাকে সত্যি করে ৯ম ওভারের পর থেকে ৮ ওভারে ৩১ রান করলেও ৫ উইকেট হারায় ভারত। সেই ৫ উইকেটের মধ্যে যেমন ছিল শেফালি ভার্মার উইকেটে তেমনি ছিল বিশ্বকাপের তিন ম্যাচে ১১ রান করা অধিনায়িকা হরমনপ্রীত কৌর তেমনি প্রথম ম্যাচের পর রান না পাওয়া জেমিমাও। দুই স্পিনার আমেলিয়া কার এবং লিয়া কাস্পেরিকের বোলিং এর দৌলতে ব্যাটিং এর উপর চাপ বাড়ে ভারতের। এই ৮ ওভারে ভারতের সব থেকে বেশি রান ওঠে ১২ নম্বর ওভারে যখন সেই ওভার থেকে ১০ রান সংগ্রহ করে ভারতীয় ব্যাটাররা। এই বিশ্বকাপে নতুন রুপে দেখা যাচ্ছে শিখা পান্ডে কে বল হাতে উইকেট নেওয়ার সাথে সাথেও ব্যাট হাতে এনে দিচ্ছেন গুরুত্বপূর্ন রান । অরুন্ধুতি রেদ্দীর জায়গায় দলে যায়গা পাওয়া রাধা যাদব এবং শিখা পাণ্ডে ২২ রানের পার্টনারশিপ না করলে ১৩০ রানের গণ্ডি পেরনো মুসকিল ছিল ভারতের পক্ষে। লেগ স্পিনার আমেলিয়া কার ২২ রান দিয়ে ২ টি এবং লিয়া কাস্পেরেক ১৯ রান দিয়ে এক উইকেট পান।  নিজের প্রথম বিশ্বকাপ  খেলতে আসা রোজমেরি মেয়ার ২ উইকেট  নেন। শেষ ১০ ওভারে ওঠে মাত্র ৫৮ রান। আঁটসাঁটো বোলিং এবং ভারতীয় ব্যাটারদের ভুল স্ট্রোক নির্বাচনের খেসারত দিয়ে  হয় ভারতকে এবং তারা মাত্র ১৩৩ রানেই পৌছতে পারে।

Amelia Kerr

রান তাড়া করতে নেমেই ঝোড়ো ব্যাটিং করার চেষ্টা করে নিউজিল্যান্ড। দীপ্তি শর্মার প্রথম ওভার থেকে ১২ রান আসলেও শিখা পান্ডের বল পুল করতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন রাচেল প্রিস্ট। পরের ওভার গুলোতে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার সুজি বেটস এবং চরম ফর্মে থাকা সোফি ডিভাইন দলকে স্থিতিশীল করেন। কিন্তু রানের গতি বাড়ানোর জন্য দীপ্তি শর্মার বলে স্কোয়ারলেগে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন বেটস আর টুর্নামেন্টের প্রথম ওভার বল করতে আসা রাধা যাদবের ছটি বলে রক্ষনাত্মক ভঙ্গিতে খেলা  খেলা সোফি ডিভাইন পরেই ওভারেই পুনম যাদবের বলে পয়েন্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ২১ বলে ১৪ রানের ইনিংস মোটেই ডিভাইনোচিত নয়। তবে শেষ অব্দি ডিভাইন খেলে গেলে একা হাতেই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন ডিভাইন। এর পরে দলের হাল দরেন ম্যাডি গ্রিন এবং ক্যটি পার্কিন্স। দুজনে ৩৭ বলে ৪৩ রানের জুটি করেন চতুর্থ উইকেটের জন্য। ২ টি চার এবং ১টি ছয় সহযোগে ম্যাডি গ্রিন ২৪ করেন , অন্যদিকে কেটি পার্কিন্স দায়িত্বশীল ২৫ রানের ইনিংসে নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরায়।  দুজনে যখন আউট হন তখনও ২১ বলে ৪৩ রানের দরকার ছিল কিউয়ি দের। ১৯ বছরের আমেলিয়া কারের ১৯ বলে ৩৪ রানের ইনিংস ভারতকে চাপে ফেলেলও শেষ পর্যন্ত  ৪ রানে জয়লাভ করে ভারত। ১৮ ওভারে ৬ রা উঠলেও, পরের ওভারে অনবদ্য পুনম যাদবকে ৪টি চার মারেন আমেলিয়া কার ফলে শেষ ওভারে ১৬ রানের দরকার ছিল নিউজিল্যান্ডের। জেন্সেন একটি এবং আমেলিয়া কার একটি চার মারলেও শেষ বলে দরকার ছিল ৫ রানের, কিন্তু রান আউট হন জেন্সেন।

তিন ম্যাচে তিন জয়ের ফলে সেমিফাইনলা নিশ্চিত করে ফেলল ভারত , যদিও একাধিক ক্ষেত্রে ভারতের এখনো উন্নতি দরকার। তিন ম্যাচেই বোলিং এর উপর ভর করে জিতল ভারত।ব্যাটিং নিয়ে কমল না চিন্তা। পরের ম্যাচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ম্যাচের সেরা শেফালি ভার্মা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর ঃ ভারত ১৩৩/৮ (শেফালি ৪৬,  ভাটিয়া ২৩ ,  কার ২/১৯ ,  মেয়ার ২/২১)
নিউজিল্যন্ড ১২৯/৬ (এমলিয়া ৩৪* , মার্টিন ২৫ , পান্ডে ১/২১, গায়াকোয়াড় ১/২২)
ভারত জয়ী ৪ রানে।